লুটপাট ও অনিয়মে ভঙ্গুর হয়ে পড়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে নতুন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ চালুর প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে। সরকারি মালিকানায় কার্যক্রম শুরু হলেও দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ব্যাংকটি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ অফিসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সরকারি তত্ত্বাবধানে ব্যাংকটি কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে পেলেই বেসরকারিকরণে যাওয়া হবে।
বাংলাদেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ ও একীভূত করার অভিজ্ঞতা না থাকায় এই উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের মতে, মাত্র দুই বছরে নতুন এই ব্যাংকের ওপর গ্রাহকের আস্থা ফেরানো হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, “দুই বছরে ব্যাংকটি দাঁড়াতে পারলেও তা হবে অত্যন্ত কঠিন কাজ। আস্থা ফেরাতে হলে প্রথমে পুরোনো গ্রাহকদের টাকা সুরক্ষিতভাবে ফেরত দিতে হবে। তা না হলে নতুন ডিপোজিট আসবে না। তাছাড়া কর্মীদের ভবিষ্যৎ, প্রশাসক নিয়োগ, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তকরণ—এসব প্রক্রিয়া এত দ্রুত বাস্তবায়ন করা বাস্তবতার সঙ্গে যায় না।”
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতি-ধারাবাহিকতা ছাড়া এই ব্যাংকের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এখনই স্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, পরবর্তী সরকারের অবস্থান এবং সংকট উত্তরণের সামর্থ্য—এসবই নির্ধারণ করবে ব্যাংকের পথচলার দিকনির্দেশনা।
এদিকে আর্থিক খাতের সংস্কার ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে ব্যাংকখাতে পুনর্গঠনের কিছু পদক্ষেপ দৃশ্যমান হলেও দীর্ঘদিনের সংকটে থাকা নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।