সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা থেকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজ রওনা দেয়। জাহাজগুলো হলো কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমবি বার আউলিয়া এবং কেয়ারি সিন্দাবাদ। এই জাহাজে মোট ১১৭৪ জন পর্যটক সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। দুপুর ১টার পর জাহাজগুলো সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছে। বিকেল ৩টার দিকে ওই জাহাজগুলো আবার কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তবে আজ তারা দ্বীপে রাত্রীযাপন করবেন।

সেন্টমার্টিন রুটের পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি দুই মাস জাহাজ চলাচল করবে, দিনে সর্বাধিক দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে পৌঁছাতে পারবেন। ঘাটে আরও চারটি জাহাজ প্রস্তুত রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে অনুমতি নিয়ে যাত্রা শুরু করবে।
জাহাজ যাত্রার আগে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটিতে জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, “প্রথম দিনে তিনটি জাহাজ নির্ধারিত নিয়মে যাত্রা করেছে। প্রতিটি পর্যটককে ট্রাভেল পাসসহ টিকিট নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। দ্বীপে প্রতিদিন সর্বাধিক দুই হাজার পর্যটক পৌঁছাতে পারবে। প্রশাসন কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।”
পরিবেশ অধিদফতরের কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন জানান, জাহাজগুলোকে কঠোর তল্লাশির মধ্যে রাখা হয়েছে। পর্যটক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে এবং দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “প্রতি জাহাজে পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশ উপস্থিত। ঘাটে এবং জাহাজে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।”
প্রথম দিনে কেয়ারি সিন্দাবাদ জাহাজের টিকিট অতিরিক্ত বিক্রির কারণে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, “ট্রাভেল পাস ছাড়া টিকিট বিক্রি করা যাবে না। নিয়ম ভঙ্গের কারণে জরিমানা করা হয়েছে।”
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সেন্টমার্টিন ভ্রমণের জন্য ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে। সেগুলো হলো:
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বরে পর্যটক শুধু দিনের বেলায় দ্বীপে আসতে পারবেন, রাত্রীযাপন করতে পারবেন না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রীযাপনের সুযোগ থাকবে।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ বঙ্গোপসাগরের বুকে আট বর্গকিলোমিটার আয়তনের প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের এই নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন এবং বিভিন্ন দফতর মাঠে অবস্থান করছে, যাতে দ্বীপে কোনো ধরনের পরিবেশগত ক্ষতি না হয়।
পর্যটকরা জানুয়ারি মাস পর্যন্ত দ্বীপে যেতে পারবেন। ফেব্রুয়ারি থেকে আবার ৯ মাসের জন্য পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকবে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং সরকারি নির্দেশনা মানা নিশ্চিত করে সেন্টমার্টিনে সুরক্ষিত ও দুষ্প্রাপ্য প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা হচ্ছে।