টানা আট মাস পর্যটকের ভিড় না থাকায় সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশে এসেছে আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন। নিরিবিলি পরিবেশ, কম আলো আর কম শব্দে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে দ্বীপের প্রকৃতি। আর এই শান্ত পরিবেশেই মৌসুম শুরুর আগেই সৈকতে ফিরে এসেছে সামুদ্রিক কাছিম—যারা সাধারণত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ডিম দেয়, তারা এবার নভেম্বরেই ডিম দিয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, মানুষের চাপ কম থাকায় দ্বীপের পরিবেশ ও ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধার হচ্ছে দ্রুত। আলোক দূষণ ও শব্দদূষণ কমে যাওয়ায় বেড়েছে কাছিমের আনাগোনা।
সেন্টমার্টিন মেরিন পার্কের কাছিম সংরক্ষণ কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক জাকির হোসেন জানান,
“এ বছর কচ্ছপগুলো একটু আগেই এসেছে। আগে ডিস্টার্ব অনেক ছিল, এখন সেসব কমে গেছে।”
সকালে সৈকতে কাছিমেরা যে প্রথম ডিমগুলো দেয়, সেগুলো সংগ্রহ করে হ্যাচারিতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ৫০–৬০ দিন রাখার পর জন্ম নেবে বাচ্চা কাছিম।
দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্ত ছেঁড়াদিয়া—যা জোয়ারে বিচ্ছিন্ন হলেও ভাটার সময় ফুটে ওঠে অপূর্ব রূপ—গত ১০ মাসে মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় আরও সবুজ হয়ে উঠেছে। প্যারাবনের ঘনত্ব বেড়েছে। প্রকৃতির এমন স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ দেখে বন্যপ্রাণী গবেষক ড. রেজা খান বলেন,
“একটি চমৎকার ইকোসিস্টেম এখানে নিজে নিজেই তৈরি হচ্ছে। এটিকে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেওয়া উচিত—এখানে মানুষের হাত দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
এই দক্ষিণ অংশটি পর্যটকদের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত। যদিও ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে, তবে রাতযাপনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় পর্যটকের সংখ্যা এখনো কম।
প্রকৃতির এমন স্বস্তির সময় সেন্টমার্টিনকে একটি ‘ইকো-রেস্ট’ পর্যায়ে নিয়ে গেছে—যা সামুদ্রিক জীবন ও দ্বীপের ইকোসিস্টেমের জন্য বিরল সুযোগ তৈরি করেছে।