সাত কলেজের শিক্ষকরা আবারও কর্মবিরতির ঘোষণায় ফিরেছেন

লেখক:
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

সরকারি সাত কলেজের শিক্ষকরা প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির খসড়া অধ্যাদেশে অস্পষ্টতা ও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ তুলে আবারও কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলেছেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়ায় ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, আর শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত সমাধান না হলে দেশজুড়ে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

সোমবার সাত কলেজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহফিল আরা বেগমের স্বাক্ষরে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খসড়া অধ্যাদেশের সীমাবদ্ধতার কারণে ক্লাস শুরু নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র হলেও সাত কলেজের শিক্ষকরা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় নন। এখনও অধ্যাদেশ, সিলেবাস ও প্রশাসনিক কাঠামো চূড়ান্ত হয়নি।

পরিষদ অভিযোগ করেছে, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় মডেল সরকারি কলেজগুলোর সক্ষমতা সংকুচিত করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। আসনসংখ্যা কমে গেলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে উচ্চ ফি-নির্ভর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেই ভর্তি হবে, যা শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ত্বরান্বিত করবে। তারা উল্লেখ করেছে, দেশের ৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথাও অধ্যাদেশ, সিলেবাস ও প্রশাসনিক কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার আগে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নজির নেই।

অধ্যাদেশের কিছু ধারা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির কিছু শব্দ উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় বিলুপ্তির শঙ্কা তৈরি করেছে, যা সাত কলেজ ইস্যুকে জটিল করেছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় বরাদ্দেও সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার। তারা দাবি করেছেন, বরাদ্দ বৃদ্ধি, আবাসন ও পরিবহন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষক সংকট দূরীকরণে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া হোক।

শিক্ষকদের প্রধান দাবি হলো ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার স্বার্থে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব স্তরে স্থায়ীভাবে কেবল বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে অধ্যাদেশ জারি করা হোক।

দাবি পূরণ না হলে পরিষদের পক্ষ থেকে কর্মসূচি হিসেবে ২ ডিসেম্বর মাউশি প্রাঙ্গণে গণজমায়েত, ৩ ডিসেম্বর দেশের সরকারি কলেজে মানববন্ধন ও প্রেস ব্রিফিং, পাবলিক পরীক্ষা বন্ধসহ সাত কলেজে সর্বাত্মক কর্মবিরতি এবং ৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মহাসমাবেশ আয়োজন করা হবে। এছাড়া চূড়ান্ত অধ্যাদেশে শিক্ষকদের মতামত উপেক্ষা হলে দেশের সরকারি কলেজে অনির্দিষ্টকালের সর্বাত্মক কর্মবিরতি (টোটাল শাটডাউন) শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন  সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক, মাউশির জরুরি নির্দেশনা—অমান্য করলে ব্যবস্থা