হাদীর সন্দেহভাজন শ্যুটারের বাড়ি বাউফলে

লেখক:
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপির প্রকাশিত ছবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ছবি যাচাই করে জানা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল। তার বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ূন কবির ওরফে মালেকের ছেলে বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ফয়সাল করিম মাসুদ এর আগে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার আদাবর থানায় একটি মামলা রয়েছে।

তবে মাসুদের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, তার পরিবার প্রায় ৩৫ বছর আগে সম্পূর্ণভাবে ঢাকায় চলে যায়। সন্দেহভাজন মাসুদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই এবং তিনি কখনো গ্রামে আসেননি বলে তারা জানান। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের নামে থাকা সব সম্পত্তি বহু আগেই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গেও তাদের কোনো যোগাযোগ নেই।

মাসুদের চাচি মিনারা বেগম বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে তাদের পরিবার ঢাকায় বসবাস করছে এবং তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু হাওলাদার জানান, হুমায়ূন কবিরকে তারা মালেক নামেই চিনতেন এবং তিনি বহু বছর আগে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান।

এদিকে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। শনিবার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য পেলে তা জানাতে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণাও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিবারের কেউ বর্তমানে ওই এলাকায় বসবাস করছেন না। তবে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলাকায় বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন  নির্বাচনের প্রস্তুতি সন্তোষজনক: মাইকেল মিলার

প্রসঙ্গত, শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর বক্স কালভার্ট এলাকায় শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। ঘটনার পর থেকে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে রাজধানীজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে ডিএমপি। বর্তমানে হাদি এভারকেয়ার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।